
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি'র (এনসিপি) সমাবেশ এবং তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘিরে সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক ও লঞ্চঘাট এলাকা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় বুধবার রাত আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি'র সদস্যদের।
এর আগে, বুধবার দুপুরে 'মার্চ টু গোপালগঞ্জ' কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় আওয়ামী লীগের হামলার মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এনসিপি'র শীর্ষ নেতারা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া পাহারায় গোপালগঞ্জ ছাড়েন তারা।
এ দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে নিহত অন্তত চারজনের মরদেহ হাসপাতালে এসেছে বলে বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস।
নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মি. বিশ্বাস।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
সংঘর্ষের ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এনসিপি'র কর্মসূচিকে ঘিরে বুধবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পুলিশের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি বলে বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীদের "বিনা বিচারে ছেড়ে দেওয়া হবে না।"